ত্বক পরিচর্যার বিভিন্ন পর্যায়।

                ত্বক পরিচর্যার চারটি পর্যায়।যথা-----------1)ক্লিনজিং                                                                 2)ফ্রেশনিং                                                                 3)ময়শ্চারাইজিং                                                         4)কন্ডিশনিং                                                               এই চারটি পর্যায় নিম্নে আলোচনা করা হল----              1)ক্লিনজিং:                                                                                 পরিবেশের মধ্যে ধুলো-ময়লা আমাদের ত্বকের উপর জমা হয় এবং ত্বকের রোগ সৃষ্টি করে।তাই এই প্রক্রিয়া ত্বক চর্চার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী।প্রতিদিন দু-বার করে ক্লিনজিং করুন;সকালে একবার,রাত্রে একবার।

ক্লিনজিং-এর জন্য শুষ্ক ত্বকে গ্লিসারিণযুক্ত সাবান এবং তৈলাক্ত ত্বকে লেবুযুক্ত সাবান প্রয়োগ করতে পারেন।সাবান ছাড়াও ক্লিনজিং প্রক্রিয়ার জন্য নামী কোম্পানির লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।সাবান বা লোশন হাতের তালুতে নিয়ে আলতোভাবে মুখ ও ঘাড়ে মেখে ম্যাসাজ করুন এবং ভেজা তুলো দিয়ে পরিষ্কার করে দিন।সারাদিন পাঁচ-ছয় বার জলের ঝাপটা দিন এবং তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন।মনে রাখবেন আমাদের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর,তাই তোয়ালে দিয়ে ঘষবেন না।
2)ফ্রেশনিং:                                                                                 ক্লিনজিং-এর পর ফ্রেশনিং করতে হয়।ভেজা তুলোতে কয়েক ফোঁটা ফ্রেশনার লাগিয়ে যে স্থানে ক্লিনজিং করেছেন সেই স্থানে আলতোভাবে তুলোটাকে বুলিয়ে নিন।
     
এই পদ্ধতিতে লোমকূপে জমে থাকা ময়লা মুক্ত হবে।                         ঘরোয়া পদ্ধতিতে এইভাবে ফ্রেশনার প্রস্তুত করতে পারেন।-------                                          শশা-থেঁতলে তার থেকে ছাঁকনির সাহায্যে রস ছেঁকে নিয়ে তুলোর সাহায্যে ক্লিনজিং করার স্থানে লাগিয়ে নিন।পনেরো মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।                                  পাতিলেবুর-রস বের করে তুলো দিয়ে ক্লিনজিং স্থানে মাখিয়ে নিন এবং দশ মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

3)ময়শ্চারাইজিং:                                                                                 ফ্রেশনিং-এর পরে ময়শ্চারাইজিং করতে হয়।ময়শ্চারাইজিং ত্বককে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।রুক্ষ ও শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা দরকার।মেক আপের
আগে ময়শ্চারাইজার করা ভালো।ময়শ্চারাইজারের পর মেক আপ করলে মুখমন্ডলের সব জায়গায় সমানভাবে মেক আপ ছড়িয়ে পড়ে।হাতের তালুতে কয়েকফোঁটা ময়শ্চারাইজিং লোশন ঢেলে নিয়ে মুখমন্ডল ও গলায় ভালো করে লাগান।

4)কন্ডিশনিং:                                                                                 বিভিন্ন ক্রীম ও বডিলোশনের দ্বারা ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানো ও পুষ্টিসাধনকে কন্ডিশনিং বলা হয়।অতিরিক্ত রোদ বা শীতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তাছাড়া বাতাসের ধূলিকণা ত্বকের ক্ষতি করে।তাই বিভিন্ন নামী কোম্পানির ক্রীম,লোশন ও কোল্ডক্রীম মাখতে হয়।মিশ্র,শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের জন্য কন্ডিশনিং বিশেষ উপযোগী।রাত্রে ঘুমানোর আগে কন্ডিশনিং করা ভালো।
    #কন্ডিশনিং করার উপায়:                                                                                 মাথার চুল আঁচড়ে ভালোকরে বেঁধে নিন,যাতে চুলের কোন অংশ কপালে আসতে না পারে।এবার হাত ধুয়ে নরম ভিজে কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে মুখ,গলা,ঘাড় আলতোভাবে আর্দ্র করে নিন।তারপর আঙুলের সাহায্যে ক্রীম লাগিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে ভালোকরে ম্যাসাজ করুন।মুখ,গলা ও ঘাড়ের উপর থেকে নীচ আবার নীচ থেকে উপর - এইভাবে ম্যাসাজ করুন।তবে চোখে ক্রীম লাগানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন।চোখ বন্ধ করে চোখের নীচে ও পাতায় ম্যাসাজ করবেন।ম্যাসাজ করার কুড়ি মিনিট পর নরম তোয়ালে বা তুলোর প্যাডের সাহায্যে মুখ,গলা ও ঘাড়ের বাড়তি ক্রীম মুছে দেবেন।শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে প্রচুর জল খেতে হবে এবং সাত-আট ঘন্টা ঘুমোতে হবে।


                                    
                                        








No comments

Theme images by -ASI-. Powered by Blogger.